কিভাবে ব্যবসা শুরু করবেন ?

Self Development4 Comments on কিভাবে ব্যবসা শুরু করবেন ?

কিভাবে ব্যবসা শুরু করবেন ?

33,168 Views

কেনো ব্যবসা করবেন সে সম্পর্কে  জানতে পেরেছেন আমার আগের আর্টিকেলগুলোর মাধ্যমে ।


আরো পড়ুন কেনো আপনি ব্যবসা করবেন?



আর পড়ুন চাকরি নাকি ব্যবসায় ?? কোনটি বাছাই করবেন ??


আপনি যেহেতু এই আর্টিকেলটি পড়ছেন তার মানে আমি ধরে নিবো আপনি ব্যবসা করতে আগ্রহী অথবা আপনি ব্যবসা শুরুর কথা চিন্তা ভাবনা করছেন । চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী আমি বলবো না যে কিছু মূলধন নিয়েই ব্যবসা শুরু করে দিন । হ্যা ব্যবসা শুরুর জন্য মূলধন দরকার পড়ে কিন্তু তার মানে এই নয় যে হাতে কিছু টাকা নিয়েই হুট করে যেকোনো একটি ব্যবসা শুরু করে দিলাম আর ওমনি সবকিছু হয়ে গেলো ।

ব্যবসা শুরুর আগে আমি বলবো প্রথমেই আপনি আপনার পরিচিত কোনো উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ীর সাথে আপনার ব্যবসা শুরুর ব্যপারে কথা বলতে পারেন । অথবা ভালো হয় যদি আপনি পরিচিত কোনো ব্যবসায়ীর প্রতিষ্টান থেকে একটি স্পষ্ট ধারণা নিয়ে আসেন তো । সেক্ষেত্রে লাভটা আপনারই হবে ।

আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি আলোচনা করবো কিভাবে আপনি একটি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন সে সম্পর্কে ।



০১.. যেহেতু আপনি ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন তার মানে আমি ধরেই নিচ্ছি আপনার কাছে ব্যবসার একটি আইডিয়া আছে যার উপর ভিত্তি করে আপনি ব্যবসাটিকে দাড় করাতে চাচ্ছেন । আইডিয়াটি মূলত এরকম যে আপনি কি কি ধরণের পণ্য নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে চলেছেন / কোন ধরণের পণ্য আপনি বিক্রি করতে চলেছেন অথবা আমরা অনেকটাই এরকম করে বলতে পারি যে অন্তত কোন ক্যাটাগরির পণ্যের মার্কেটে আপনি প্রবেশ করতে চলেছেন সেটি সম্পর্কে আপনার ভালো একটি ধারণা রয়েছে । তো এক্ষেত্রে আপনাকে যে কাজটি করতে হবে প্রথমেই সেটি হচ্ছে মার্কেটে বর্তমানে কোন কোন কোম্পানী কি কি প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেট লিড করছে সেটা সম্পর্কে একটা স্বচ্ছা ধারণা রাখা । শুধু ধারণা রাখলেই হবে না আপনি এই প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে কতদূর আগাতে পারবেন সেটা নিয়েও একটা খসড়া করে ফেলতে পারেন । এই বিশ্লেষ্ণ করার সময় যদি আপনার মনে হয় যে আপনি যে ধরণের সেবা ভোক্তাদের দিতে চলেছেন তা অন্যদের চাইতে বেশি সুবিধা দিবে তাহলে আপনি নিঃসন্দেহে একটি ভালো আইডিয়া পেয়েছেন আপনার ব্যবসা শুরু করার জন্য । শুভ কামনা …..

০২.. আপনার প্রথম ধাপের কাজ শেষ । এবার এই ধাপে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনার ব্যবসায়িক প্ল্যান । যেহেতু আপনি আপনার ব্যবসায়ের আইডিয়াটি পেয়েই গেছেন তাই এখন আপনার কাছে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে আপনার ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য কি সেটি নির্ধারণ করা । আপনার ব্যবসায়ে আপনি কি কি ধরণের পণ্য নিয়ে ব্যবসা করবেন , আপনার ব্যবসায়ের চূড়ান্ত ভোক্তা কারা হবেন, আপনি কিভাবে আপনার ব্যবসায়ের খরচ বহন করবেন , খরচের জন্য যে পরিমাণ টাকার দরকার পড়বে সেটি কোথা থেকে এবং কীভাবে সংগ্রহ করবেন এসব বিষয় নিয়ে আপনাকে এই ধাপে কাজ করতে হবে । মূলত এইসব বিষয়গুলা মাথায় রেখেই আপনি আপনার ব্যবসায়িক প্ল্যানটিকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারেন । অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রাথমিকভাবে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ব্যবসায় শুরু করতে গিয়ে কোনো কিছু বিবেচনা না করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন , যার খেসারতও দিতে হয় চরমভাবে ।

কেননা আপনি যদি আপনার চূড়ান্ত ভোক্তা কারা হবে, কি কি পণ্যের সেবা আপনি প্রদান করবেন সেটা সম্পর্কে যদি নিজেই ভালোভাবে অবগত না থাকেন তাহলে ব্যবসায়ে উন্নতি হবে কি করে ? ( প্রশ্ন থেকেই যায় ) । তাই এই পর্যায়ে আপনার টার্গেট কাস্টমারের কথা মাথায় রেখে পণ্য নিয়ে কাজ করতে হবে ।  আপনার ব্যবসাটি কোথায় যাবে তা আপনি সহজেই বের করতে পারেন কেবল একটি ভালো ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মাধ্যমে ।

০৩.. একটি ব্যবসাকে মূলধন ব্যতীত পরিচালনা করা যায় না । একটি ব্যবসা শুরু সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টিকে বিবেচনায় রাখতে হয় সেটি হচ্ছে মূলধন । আপনি ব্যবসা শুরু করতে চান কিংবা করেই ফেলেছেন কিন্তু আপনার কাছে বর্তমানে ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ মূলধন নেই । তাহলে এখন ভাবুন এই ব্যবসাটি নিয়ে আপনি কতদূর এগিয়ে যেতে পারবেন ?? হোচট খেয়ে নিশ্চই বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারবেন না, তাই না ? আর এতদূর যখন এসেই গেছেন তখন পিছনে ফিরে যাওয়াটাও মোটেই ভালো দেখায় না, তাই না ? কাজেই ব্যবসা পরিচালনার জন্য আপনাকে অর্থায়ন করতে হবে । ব্যবসায়ে অর্থায়নের সময় আরেকটি গুরত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে যাতে অর্থায়নটি হয় যথাযথ ।

০৪.. ব্যবসায়ে মূলধন যেহেতু বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত আপনি নিয়েই ফেলেছেন তাহলে এটি স্পষ্টভাবে বলা যায় যে আপনি মনে মনে আপনার ব্যবসায়ের কাঠামোর একটি ছক কষে ফেলেছেন । আপনাএ এই ব্যবসায়িক কাঠামোর উপরেই কিন্তু আপনার অনেক কিছু নির্ভর করছে ।  আপনি নিযে নিজেই ব্যবসা করবেন নাকি ব্যবসায়ে আরো কাউক অংশীদার হিসেবে রাখবেন সেসব নিয়ে  আপনাকে এই পর্যায়ে ভাবতে হতে পারে ।  কেননা আপনি যদি নিজেই নিজের ব্যবসাকে পরিচালনা করতে চান সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ের সকল প্রকার লাভ ক্ষতি আপনাকেই বহন করতে হবে । ব্যবসায়ে লাভ হলেও আপনার , ক্ষতি হলেও আপনার  । আবার ব্যবসায়ের অর্থায়নের প্রয়োজনে অনেক সময় নিজের ব্যক্তিগত অর্থও আপনাকে ব্যবসায়ের জন্য নিয়ে আসতে হতে পারে । এই ক্ষেত্রে আপনি একমালিকানা ব্যবসায়ের যে কাঠামো আছে সেটি অনুসারে আপনার ব্যবসার কাঠামোকে দাড় করাতে পারেন ।  এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে, বাংলাদেশের প্রায় ৮৫% ব্যবসাই হচ্ছে একমালিকানা ব্যবসায় ।

আবার আপনি চাচ্ছেন যে নিজেই একা একা ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে দুইজন বা কয়েকজন একসাথে মিলে ব্যবসাটিকে পরিচালনা করবেন । এক্ষেত্রে আপনি অংশীদারি ব্যবসায়ের কাঠামো অনুযায়ী ব্যবসায় গঠন করবেন । তখন অংশীদারি ব্যবসায়ের নিমানুযায়ী লাভ ক্ষতি আপনাদের মাঝে বন্টিত হবে ।

০৫ .. পণ্য , মূলধন থেকে শুরু করে  ব্যবসায়ের কাঠামো পর্যন্ত নির্ধারণ করা শেষ । এই পর্যায়ে আমরা  ব্যবসায়ের নিবন্ধন সম্পর্কে জানবো । আপনি যেহেতু একাই ব্যবসা করবেন বলে ঠিক করেছেন সেক্ষেত্রে আপনাকে একমালিকানা ব্যবসায়ের নিয়মানুসারে এর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে হবে । বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায় সে এই ধরণের ব্যবসায় প্রতিষ্টান স্থাপনের ক্ষেত্রে তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না । মালিক নিজেই নিজের তহবিল থেকে ব্যবসার অর্থ যোগান দিতে পারে । একমালিকানা ব্যবসায়ের প্রতিষ্টা ও পরিচালনার সুনির্দিষ্ট আইন না থাকলেও  ব্যবসায়ের যদি কোনো নাম দেয়া হয় সেক্ষেত্রে নামটি স্থানীয় প্রশাসন থেকে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেয়া ভালো । ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে এই সংক্রান্ত যাবতীয় স্থানীয় পৌরসভা থেকে জেনে নিতে পারবেন । এছাড়াও কোন খাতে কি কি লাগবে আর কত টাকা খরচ হবে তা সবই আপনি জানতে পারবেন স্থানীয় পৌরসভা থেকে ।

০৬.. ব্যবসা তো শুরু করা হলো । এবার ব্যবসায়ের সুবিধার জন্য এর নিরাপত্তা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে । ব্যবসা শুরু করার পর থেকে আপনাকে বিভিন্ন ধরণের অপ্রত্যাশিত ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে । বলা হয়ে থাকে যে ব্যবসায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে ব্যবসায়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর ব্যবস্থা করা । এসব ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য আপনি প্রয়োজনমতো বীমা করে রাখতে পারেন । যেমন অগ্নিবীমা ইত্যাদি ।

০৭.. এবার এর ধাপে আপনি আপনার প্রয়োজনমতো টিম গঠন করবেন । যদি আপনি একাই ব্যবসা করতে চান সেক্ষত্রে কীভাবে সবকিছু সম্পাদন করবেন তা ঠিক করে রাখবেন এই ধাপে । আবার আপনি যদি এক/একাধিক কর্মচারী রেখে ব্যবসা করতে চান সেক্ষত্রে তাদের মাঝে কাজগুলো কীভাবে ভাগ করে দেবেন সেটার প্ল্যান করতে হবে আপনাকে । অথবা ব্যবসায়টি যদি হয় অংশীদারি ব্যবসায় তাহলে চুক্তি মোতাবেক কাজ ভাগ করে নেয়া যেতে পারে । এক্ষেত্রে অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তিপত্রকে অনুসরণ করা যেতে পারে ।

০৮.. সবকিছু তো ঠিক হলো । এবার পালা হচ্ছে ব্যবসায়ে পণ্য নামানোর । পণ্য আনতে হলে অবশ্যই আপনাকে কারো না কারো কাছ থেকে আপনার কাংখিত পণ্য ক্রয় করতে হবে । তো এক্ষেত্রে আপনি যা করবেন সেটা হচ্ছে কোথায় কম দামে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যায় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে । কেননা একজন আদর্শ ব্যবসায়ী সবসময়ই এ ব্যাপারে সচেতন থাকেন । তাই এই ধাপে এসে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কাদের কাছ থেকে / কোথা থেকে পণ্য ক্রয় করবেন এবং অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে পণ্যগুলো উৎকৃষ্ট মানের কি না ।

০৯.. তো আমরা প্রাথমিকভাবে ব্যবসা শুরু করে ফেললাম । কিন্তু একটি বিষয় না বললেই নয় সেটি হচ্ছে ব্যবসায়ের প্রচার, প্রসার । ব্যবসা তো শুরু করলেই হবে না সেটার প্রচার ও প্রসার থাকতে হবে । এর এজন্য আপনাকে আপনার ব্যবসায়ের মার্কেটিং করতে হবে । আপনি এটি বিভিন্ন ভাবে করতে পারেন । যেহেতু আমরা বর্তমানে ডিজিটাল যুগে আছি তাই ব্যবসায়ের মার্কেটিং করার জন্যও ডিজিটাল উপায় অনুসরণ করলে এটি নিঃসন্দেহে ভালো একটি ফলাফল নিয়ে আসবে একথা অনায়াসে বলে দেয়া যায় । কেনো প্রচার প্রসার দরকার ?? ব্যবসা শুরু করলেন আপনি, কিন্তু মানুষ যদি আপনার ব্যবসা সম্পর্কে না-ই জানে তাহলে কতদূর আগানো যাবে ভাবুন তো একবার । তাই ব্যবসার খাতিরেই এবং সকলের জানার সুবিধার্থে আপনাকে ব্যবসায়ের প্রচার এবং প্রসারের জন্য কিছুটা হলেও খরচ করতে হবে । আর জানেন তো যত বেশি খরচ করবেন তত বেশি প্রসার পাবে ব্যবসায় । ব্যবসার প্রসারের ক্ষেত্রে আপনি ৩৬০ডিগ্রি আইডিয়া অনুসরণ করতে পারেন ।


আরো পড়ুন  ব্যবসার জন্য ৩৬০ ডিগ্রি আইডিয়া 


১০.. আমরা তো পুরোদমে ব্যবসায় শুরু করেই দিলাম । এখন সময় ব্যবসাকে বড় করার । ব্যবসাকে বড় করতে হলে আপনাকে হতে হবে চৌকস । শুধু চৌকস না বরং বলা উচিত ভালোভাবে চৌকস হতে হবে । এক্ষেত্রে আপনাকে নতুন নতুন পণ্য সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে । কাস্টমারের চাহিদাও একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না । বাজারে বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী কোন পণ্যটির কাটতি বেশি, কাস্টমাররা কোন পণ্য ক্রয়ের প্রতি বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছে সেটা সম্পর্কে আপনার ধারনা থাকতে হবে ।

শুরু করতে পারেন এভাবেই । তবে হ্যা পারফেক্ট বলতে কিছু নেই । ব্যবসা করতে হলে আপনাকে প্ল্যান করেই করতে হবে । প্ল্যান করেই আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে । যেকোনো ধরণের পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখতে হবে । কারণ ব্যবসায়ে যেকোনো কিছুই হতে পারে । তাই নিজেকে সর্বোপরি প্রস্তুত রেখে নির্ধারিত প্ল্যান মতো এগিয়ে যেতে হবে । এছাড়াও আপনাকে হতে হবে ধৈর্য্যশীল । ব্যবসা শুরু করার পর পরই আপনি রাতারাতি বড়লোক হিয়ে যাবেন এমন ভাবাটা বোকামি ছাড়া কিছুই নয় । তবে হ্যা ব্যবসা যেহেতু করবেন লাভ তো হবেই আর এই লাভ নিয়ে পরিকল্পনা মতো ধীরে ধীরে আপনাকে এগুতে হবে ।

I am a zero starter. Nothing to say right now, just wait and see. i will come like a thunder.

4 thoughts on “কিভাবে ব্যবসা শুরু করবেন ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top